Dhaka ১১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম:
নীলফামারীর সীমান্ত গ্রামে অসহায় পরিবারের মাঝে ৫৬ বিজিবির কম্বল বিতরণ ভালুকায় এলপিজি গ্যাসে অতিরিক্ত দাম, ২০ হাজার টাকা জরিমানা ডিমলায় বেগম খালেদা জিয়ার মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল নীলফামারীতে খালেদা জিয়ার স্মরণে প্রার্থনা সভা মানবিক নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজামান নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর সোনাতলায় থানা পুলিশের কঠোর চেকপোস্ট ও টহল চলমান বগুড়ায় র‍্যাবের অভিযানে ৫২ লাখ টাকার নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ, ৩ জনের কারাদণ্ড ও জরিমানা আপাতত দেশেই চিকিৎসা চলবে খালেদা জিয়ার সোনাতলায় সঞ্চয়পত্র খোলার নামে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: পোস্টাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা – সিইসি

সোনাতলায় সঞ্চয়পত্র খোলার নামে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: পোস্টাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩৬১ Time View

নিউজ ডেক্সঃ
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা ডাকঘরে পরিবার সঞ্চয়পত্র খোলার নাম করে এক গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক পোস্টাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম মোঃ হোসেন আলী। তিনি সোনাতলা উপজেলা পোস্ট অফিসে পোস্টাল অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরে কর্মরত আছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাতলায় এক সংবাদ সম্মেলন করে, টাকা ফেরত ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ ছনিয়া আকতার মিতু। তিনি সোনাতলা উপজেলার গড়ফতেপুর গ্রামের মোঃ শাহীন আলমের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছনিয়া আকতার জানান, গত ১৬ জুলাই ২০২৩ সালে তিনি সোনাতলা উপজেলা ডাকঘরে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে যান। সেখানে পোস্টাল অপারেটর মোঃ হোসেন আলীর সঙ্গে তার কথা হয়। হোসেন আলী তাকে পরের দিন টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। সেই অনুযায়ী ১৭ জুলাই ২০২৩ তারিখে ছনিয়া আকতার ৫ লাখ টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে হোসেন আলীর কাছে জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর হোসেন আলী একটি পূরণকৃত ফরম ভুক্তভোগীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন সঞ্চয়পত্র খোলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মাসিক মুনাফার বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেন আলী তাকে জানান, ‘মেয়াদ শেষে একবারে টাকা তুললে লাভ বেশি পাওয়া যাবে’—এমন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিদায় দেন।

ছনিয়া আকতার বলেন, ‘‘স্বামীর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আমি সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে সোনাতলা পোস্ট অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি হোসেন আলী বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমান উপজেলা পোস্টমাস্টারের কাছে আমার কাগজপত্র দেখালে তিনি জানান, এই সঞ্চয়পত্রটি ভুয়া। আমার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।’’

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরে গিয়ে বর্তমান কর্মস্থলে থাকা অভিযুক্ত হোসেন আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গাইবান্ধা পোস্টমাস্টারের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হোসেন আলী টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছনিয়া আকতার বলেন, ‘‘আমি সরল বিশ্বাসে সরকারি অফিসে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই কর্মচারী আমার ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমি আমার খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’’

এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগীর বড় ভাই মোজাহার হোসেন,  স্বামী শাহীন আলম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

নীলফামারীর সীমান্ত গ্রামে অসহায় পরিবারের মাঝে ৫৬ বিজিবির কম্বল বিতরণ

সোনাতলায় সঞ্চয়পত্র খোলার নামে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ: পোস্টাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৫:১১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

নিউজ ডেক্সঃ
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা ডাকঘরে পরিবার সঞ্চয়পত্র খোলার নাম করে এক গ্রাহকের ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক পোস্টাল কর্মচারীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম মোঃ হোসেন আলী। তিনি সোনাতলা উপজেলা পোস্ট অফিসে পোস্টাল অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং বর্তমানে গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরে কর্মরত আছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে সোনাতলায় এক সংবাদ সম্মেলন করে, টাকা ফেরত ও অভিযুক্তের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ ছনিয়া আকতার মিতু। তিনি সোনাতলা উপজেলার গড়ফতেপুর গ্রামের মোঃ শাহীন আলমের স্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ছনিয়া আকতার জানান, গত ১৬ জুলাই ২০২৩ সালে তিনি সোনাতলা উপজেলা ডাকঘরে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে যান। সেখানে পোস্টাল অপারেটর মোঃ হোসেন আলীর সঙ্গে তার কথা হয়। হোসেন আলী তাকে পরের দিন টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেন। সেই অনুযায়ী ১৭ জুলাই ২০২৩ তারিখে ছনিয়া আকতার ৫ লাখ টাকা ও কাগজপত্র নিয়ে হোসেন আলীর কাছে জমা দেন।

অভিযোগে বলা হয়, টাকা নেওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর হোসেন আলী একটি পূরণকৃত ফরম ভুক্তভোগীর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন সঞ্চয়পত্র খোলা হয়েছে। ভুক্তভোগী মাসিক মুনাফার বিষয়ে জানতে চাইলে হোসেন আলী তাকে জানান, ‘মেয়াদ শেষে একবারে টাকা তুললে লাভ বেশি পাওয়া যাবে’—এমন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিদায় দেন।

ছনিয়া আকতার বলেন, ‘‘স্বামীর ব্যবসায়িক প্রয়োজনে গত ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আমি সঞ্চয়পত্র ভাঙাতে সোনাতলা পোস্ট অফিসে যাই। সেখানে গিয়ে জানতে পারি হোসেন আলী বদলি হয়ে গেছেন। বর্তমান উপজেলা পোস্টমাস্টারের কাছে আমার কাগজপত্র দেখালে তিনি জানান, এই সঞ্চয়পত্রটি ভুয়া। আমার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়নি।’’

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার গাইবান্ধা প্রধান ডাকঘরে গিয়ে বর্তমান কর্মস্থলে থাকা অভিযুক্ত হোসেন আলীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। গাইবান্ধা পোস্টমাস্টারের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত হোসেন আলী টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ছনিয়া আকতার বলেন, ‘‘আমি সরল বিশ্বাসে সরকারি অফিসে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু সেই কর্মচারী আমার ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আমি আমার খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত চাই এবং এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।’’

এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগীর বড় ভাই মোজাহার হোসেন,  স্বামী শাহীন আলম সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।